শামীম আহমেদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন হচ্ছে কয়েকদিন থেকে। সম্প্রতি পোষ্য কোটাকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিক্ষক মুখোমুখি অবস্থানে দাড়িয়েছে। শিক্ষক এবং কর্মকর্তা, কর্মচারী চায় তাদের সন্তানেরা পোষ্য কোটার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাক। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এতে নারাজ। কেননা তারা কঠিন প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়। অনেকের নিকট বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়তে পারা একটি স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধে অনেক সময় একটি সিটের বিপরীতে ৮ থেকে ৯ জন পরিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়ে থাকে। অন্য দিকে পোস্য কোটার মাধ্যমে খুব সহজে অথবা অকৃতকার্য হয়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় তখন সেটা যেমন কষ্টের তেমনি চরম বৈষম্য।
রাবিতে গত বছরের অক্টোবরে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪ হাজার ১৭৩টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮২ শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থীর পাস নম্বর নির্ধারিত ছিল ৪০। মেধা তালিকা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদেরই ভর্তির সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এবার কার্যত ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেও ভর্তি হয়েছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং যোগ্যরা ভর্তির সুযোগ হারাচ্ছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের পোষ্য কোটায় ভর্তি করা হচ্ছে কোন যুক্তিতে ?
এখন কথা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কোটা পদ্ধতি লাগবে কেন? দেশের সাধারণ জনগণের সন্তানদের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সন্তান বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে বড় হয়। শিক্ষার ভালো পরিবেশ পায়, তুলনামূলক ভালো পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পায়, তাহলে তাদের জন্য কেন কোটা সিস্টেমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে হবে? এভাবে খুব সহজে পোষ্য কোটার মাধ্যমে ভর্তি হতে পারা মানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে অনেকটা তামাশা।
কোটা যদি দিতেই হয় তাহলে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, যেমন দরিদ্র কৃষক, শ্রমিক শ্রেণির সন্তানদের জন্য দেওয়া উচিত। কেননা এসব পরিবারের সন্তানেরা পায় না ভালো শিক্ষার পরিবেশ, না আছে মৌলিক চাহিদার পূরনের নিশ্চয়তা। বিভিন্ন ঘাতপ্রতিঘাতের মাধ্যমে পড়াশোনা করে এত দূর আসতে হয়। সমাজের উচু শ্রেণির জন্য সুবিধা দিয়ে দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালো কিছু দেওয়া সম্ভব নয়। এতে বৈষম্য শুধু বাড়াব।
অতএব পোষ্য কোটা উচ্চ শিক্ষা স্তরে একটি বৈষম্যের প্রত্যক্ষ চিত্র। যে কোটা সিস্টেমের জন্য ২৪শের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ। সে বাংলাদেশে পোষ্য কোটার মত সুবিধাবাদী পদ্ধতি থাকতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং সরকারের উচিত, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে পোষ্য কোটা বাতিল করা। এতে করে যেমন বৈষম্য দূরীকরণ হবে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল স্থানে প্রকৃত মেধাবীরা স্থান পাবে।
শামীম আহমেদ
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ
