অনলাইন ডেস্ক
পাইপলাইনের গ্যাস–সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর এলপিজি সাধারণ মানুষের রান্নার প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠেছে। অথচ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশে এলপিজি নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া এবং চড়া দাম দিয়েও গ্যাস না পাওয়া বাজার ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতাই তুলে ধরে।
ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। খুচরা বিক্রেতারা বেশি দামে কেনার অজুহাতে নির্ধারিত দরের তোয়াক্কা করছেন না। সরবরাহ চেইনের কোথায় গলদ, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ এখনো কার্যকরভাবে চোখে পড়ছে না।
জ্বালানি বিভাগ ভ্যাট কমানো, এলসি সহজীকরণ ও আমদানির সীমা বাড়ানোর মতো কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো ইতিবাচক হলেও আমদানিকারকদের মতে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও এক–দুই মাস লাগবে। এই সময়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কীভাবে লাঘব হবে, সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই।
দেশে এলপিজির বড় কোনো রাষ্ট্রীয় মজুত না থাকায় সামান্য সংকটেই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। জ্বালানির মতো সংবেদনশীল খাত পুরোপুরি বেসরকারি কোম্পানিনির্ভর থাকা কতটা নিরাপদ, তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাফার স্টক গড়ে তোলা জরুরি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত যেন কেবল লোকদেখানো না হয়। আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা—সব স্তরে সরবরাহ ও দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। বিইআরসি নির্ধারিত দাম বাস্তবে কার্যকর না হলে জনক্ষোভ কমবে না।
এলপিজি সংকটের সমাধান ভ্যাট কমানো বা ধর্মঘট প্রত্যাহারে সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা। দ্রুত আমদানি নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের রান্নার চুলা সচল রাখাই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
