অনলাইন ডেস্ক
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে খরচের যে ঝড় উঠেছে, তাতে সাধারণ সমর্থকদের জন্য মাঠে বসে খেলা দেখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। টিকিটের মূল্য থেকে শুরু করে হোটেল, পার্কিং—সবকিছু মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর।
বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর থেকেই টিকিটের চাহিদা আকাশচুম্বী। গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত লটারির জন্য জমা পড়েছে প্রায় ৫০ কোটি আবেদন। আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে, কারা টিকিট পাচ্ছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, বিপুল পরিমাণ টিকিট বেশি দামে পুনর্বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টিকিট পেলেও থাকার জায়গা পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কাছে একটি হোটেলের ভাড়া সাধারণ সময়ের ১৫৩ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫১০ ডলার—অর্থাৎ প্রায় ২,৮৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
এয়ারবিএনবির তথ্যমতে, ড্রয়ের পর আবাসনের জন্য অনুসন্ধান বেড়েছে ১৬০ শতাংশ। অনেক শহরেই পর্যাপ্ত হোটেল না থাকায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
বিশ্বকাপের খরচ শুধু টিকিট আর হোটেলে সীমাবদ্ধ নয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে স্টেডিয়ামের অফিসিয়াল পার্কিংয়ের দাম রাখা হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার। অনেক ক্ষেত্রে এই পার্কিং ফি টিকিটের দামের চেয়েও বেশি। তাও আবার গাড়ি পার্ক করে প্রায় এক মাইল হেঁটে স্টেডিয়ামে যেতে হবে।
চাহিদা বাড়ার সুযোগে অনেক বাড়ির মালিক আগের বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন। ডালাসে ৩২৭ ডলারে ভাড়া নেওয়া একটি বাসা হঠাৎ বাতিল করে এক ঘণ্টার মধ্যেই ৯১৭ ডলারে নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এয়ারবিএনবি জানিয়েছে, এমন ঘটনায় মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তবে ভুক্তভোগীদের ভোগান্তি কমছে না।
২০২৫ সালের জুনে এয়ারবিএনবি ফিফার অফিশিয়াল পার্টনার হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুধু এয়ারবিএনবিতেই এই বিশ্বকাপ ঘিরে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের লেনদেন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে চলবে এক বিশাল ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’।
