ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভোটের আগে গোয়েন্দা সতর্কতা: তালিকায় ৩ হাজার অপরাধী, ‘শুটার’ ৩৫২ জন

  • আপলোড তারিখঃ 10-02-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 40812 জন
ভোটের আগে গোয়েন্দা সতর্কতা: তালিকায় ৩ হাজার অপরাধী, ‘শুটার’ ৩৫২ জন ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক 


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে দেশজুড়ে সহিংসতা ঠেকাতে বড় ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতায় গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে সারা দেশে প্রায় তিন হাজার অস্ত্রধারী ও অপরাধীর তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এই তালিকায় রয়েছে ৩৫২ জন ‘শুটার’ এবং ১২৪ জন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য।


নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্সিকান্দি এলাকায় বিএনপির এক প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া চারজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একরাম দেওয়ানের নাম রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার করা ‘শুটার’ তালিকায়। তবে ঘটনার পর এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।


গোয়েন্দা তথ্য বলছে, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতে সক্রিয় থাকা একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী আবারও মাঠে সক্রিয় হচ্ছে। ঢাকার আলোচিত সন্ত্রাসী শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম ২২টি মামলার আসামি হয়েও জামিনে মুক্ত হয়ে ফের অস্ত্রধারী অপরাধে জড়িয়েছেন। একইভাবে পুরান ঢাকায় প্রকাশ্যে খুন হওয়া সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন হত্যাকাণ্ডের পেছনেও প্রতিদ্বন্দ্বী সন্ত্রাসী চক্রের দ্বন্দ্বের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন পলাতক, যাঁদের নামও তালিকাভুক্ত।


পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত এক দশকে যাঁরা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন, রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িয়েছেন বা সাম্প্রতিক আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন—তাঁদের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের কেউ কারাগারে, কেউ জামিনে, আবার কেউ পলাতক অবস্থায় রয়েছে।


নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার এবং আট মহানগরের পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পলাতক ও জামিনে থাকা অস্ত্রধারী এবং জঙ্গিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদত হোসাইন বলেন, এই নজরদারি রাজনৈতিক নয়, সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক ও আইনসম্মত। উদ্দেশ্য একটাই—অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে ১১৫ জন, চট্টগ্রাম মহানগরে ১৮০ জনসহ দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় তালিকাভুক্ত অপরাধীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। এর মধ্যে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে পালিয়ে থাকা ও জামিনে মুক্ত ১২৪ জন জঙ্গি সদস্যকে।


পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানান, ধাপে ধাপে তালিকা হালনাগাদ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সাধারণ অস্ত্রধারীরা যেমন হুমকি, তার চেয়েও বড় আশঙ্কা তৈরি করছে পলাতক জঙ্গিরা, যারা ভোটকে ঘিরে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে।


নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় মাঠে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষ্য—ভোটের মাঠে অস্ত্র ও সন্ত্রাসের উপস্থিতি ঠেকিয়ে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ Bangladesh Shomachar

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

নতুন একনেক গঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতি