ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডের সৌন্দর্যে একদিন

  • আপলোড তারিখঃ 10-02-2026 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 41139 জন
সীতাকুণ্ডের সৌন্দর্যে একদিন ছবির ক্যাপশন: .

>> হৃদয় আহ্সান আতিক 


মানুষ অবশ্যই পাখির মতো। শহুরে জীবনের জটিল অঙ্কের সহজ সমাধান প্রকৃতির কোলে। তাইতো হাঁপিয়ে ওঠা জীবন থেকে ক্ষণেকের মুক্তি পেতে মানুষ বারবার যায় নিসর্গের বুকে। ডিমআরসির বার্ষিক শিক্ষা সফরের তৃতীয় ধাপের গন্তব্য সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। সাঁই সাঁই করে বত্রিশটা বাসের বিশাল বহর দাপিয়ে চলছে শহরের বুক চিরে চট্রগ্রাম অভিমুখে। কয়েকদিন আগে ডিএমআরসি প্রথম ধাপের (একাদশ, দিবা শাখা) পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে মহামায়া লেকের মায়াবী বুকে। আঠারো শত শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে প্রথম ধাপের পিকনিক। দ্বিতীয় ধাপের পিকনিকে (একাদশ-দ্বাদশ, প্রভাতি) ছত্রিশটা বাস নিয়ে রাঙামাটি রিসোর্ট, গাজীপুরে গন্তব্য ছিল। সে যাত্রাও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 


ছবি: ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ ওবায়দুল্লাহ নয়ন স্যার (ডানে)


আজ আমরা যাচ্ছি চন্দ্রনাথ পাহাড়, সুপ্তধারা এবং সহস্র ধারা ঝরনার নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। সকাল সাতটায় কলেজ গেট থেকে সম্মিলিত মোনাজাতের মাধ্যমে, সৃষ্টিকর্তার কাছে কল্যাণ কামনা করে শুরু হয় আমাদের যাত্রা। দ্বাদশ কে-শাখার ছাত্রদের বাসের দায়িত্বে আছেন জনাব মনোজ বিশ্বাস। বাসের মধ্যে এই দীর্ঘপথে নাচ-গানে হৈহল্লা চলছে। কয়েক ঘণ্টার পথ অথচ আমাদের সফর একদিনের। সুতরাং ছোট্ট এই দিনটিকে আনন্দের মুহূর্তে বড়ো করে তুলে স্মৃতির শোকেসে সাজাতে হবে। রাস্তায় জ্যাম বিরক্তির কারণ হচ্ছে মাঝেমধ্যে। সকাল আটটা ত্রিশ মিনিটে আমরা নাশতা সারলাম। যেহেতু আমাদের যাত্রা ফেব্রুয়ারির নয় তারিখ। দুদিন পরেই নির্বাচন। তাই রাস্তার অস্বাভাবিক জ্যাম ঠেলে আমাদের এগোতে হচ্ছে। 


ছবি: শিক্ষকদের একাংশ


প্রায় দুপুর দুইটার দিকে আমরা সীতাকুণ্ড ইকো পার্কের পাকিং-এ বাস থেকে নামলাম। তারপর গ্রুপ ছবি তুলে যে যার মতো দলবেঁধে দলছুট। কেউ ঝরনা, কেউ পাহাড় যেখানে যার পছন্দ আনন্দ খুঁজতে সেখানেই আমাদের পায়ে হাঁটা গন্তব্য। অনেকগুলো সিঁড়ি পেরিয়ে পাহাড়ের শীর্ষচূড়ায় উঠে মন আমার গাইছে ''কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা।'' চন্দ্রনাথের উঁচুতে দাঁড়িয়ে নিজেকে কত ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে। আর ভাবছি বাংলাদেশ এতই সুন্দর! রূপসী বাংলার কবির কবিতাতে তাই এদেশ চিত্ররূপময়। 


চন্দ্রনাথের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে চোখ মেললেই সবুজ আর সবুজ। ''মানুষ তবু ঋণী এই পৃথিবীরই কাছে।" রণ, রক্তাক্ত, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অশান্তির এই পৃথিবীতে এসে প্রকৃতির যে অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছি তাতেই শান্তি।


গুরুগম্ভীর আলোচনা থেকে চলুন তবে প্রকৃতির বুকে আবারও ফেরা যাক। হাঁটতে হাঁটতে পা চলছে না। মন তবু থামছে না। সুপ্তধারার ঠান্ডা জলরাশিতে শরীর ভেজাতে পারলে মন তবে হবে শান্ত। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের ভেতর অবস্থিত এই ঝরনায় যাওয়ার জন্য দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে নামতে হয়। এটি চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লকের গভীর পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এবং এর মূল সৌন্দর্য ও পানি পড়ার দৃশ্যটি মূল উচ্চতা থেকে অনেক নিচে, ছোটো খাড়া উপত্যকায় দেখা যায় সুপ্তধারা যেন আপন বৈশিষ্ট্যে বহমান। ঝরনার ভরা যৌবনের সৌন্দর্য মূলত বর্ষাকালে। আমরা ফেব্রুয়ারিতে এলাম। এখন ঝরনার ধারা অনেক কম। বিকাল চারটায় আমাদের ফিরতে হবে শহুরে ঘরের উদ্দেশ্য। আধপেটা সৌন্দর্য উপভোগ করে দ্রুত দুপুরের খাবারের জন্য প্যান্ডেলে চলে এলাম সদলবলে। দেড় হাজার মানুষকে এক মজলিসে বসানোর পর্যাপ্ত জায়গা এখানে নেই।


শিক্ষার্থীদেরকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করছেন শিক্ষকেরাই। পেটে ক্ষুধার ঠাকুর এদিকে অশান্তি করছে। যাইহোক, কিছুক্ষণ বাদে সবাইকে খাওয়ানোর পর আমরা বসলাম। খাবারের আয়োজন ছিল দারুণ। যে যতক্ষণ পেরেছি খেয়েছি- গোরুর গোশতের বিরিয়ানি, রোস্ট, সালাদ, জর্দা এবং মোজো।


ছবি: হৃদয় আহ্সান আতিক


দুপুরের খাবারের পর শরীরটা এলিয়ে পড়ল। শরীরকে শাসন করে মন ঘুরতে ইচ্ছে করছে আরও বহুক্ষণ। কিন্তু একদিনের সামান্য কয়েক ঘণ্টায় চন্দ্রনাথ এবং চট্টগ্রামের সৌন্দর্য শেষ করা অসম্ভব। মনে মনে পরিকল্পনা আঁটতে লাগলাম আবার আসব, হাতে অনেক সময় নিয়ে। দুপুরের খাবারের পর সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে লাগলাম চন্দ্রনাথে চড়ব না কি সুপ্তধারায় যাব! না কি সহস্রধারা যাব না কি গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত! হাতে সময় মাত্র দেড়ঘণ্টা। যে-কোনো একটা জায়গায় যাওয়া সম্ভব। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যাওয়ার জন্য সিএনজি ভাড়া চাইল চার জন আটশত টাকা। আমাদের মতো এত এত লোক সমাগম দেখলে সিএনজির লোকেরা খুশি হয়ে ভাড়া বাড়ায়। আমরা অখুশি হয়ে আর গেলাম না।


আমাদের যাত্রার সময় ফুরিয়ে এলো। সূর্য লুকাল পাহাড়ের ওপাশে। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ অভিমুখে এবার আমাদের প্রত্যাবর্তনের যাত্রা শুরু। ফেরার পথে অবশ্য জ্যামের কবলে পড়তে হয়নি। ঠিক রাত বারোটায় আমাদের বাস কলেজ গেটের সামনে নিরাপদে আমাদেরকে নামিয়ে দিলো। 


লেখক: প্রভাষক, সাংবাদিক, উপস্থাপক, উদ্যোক্তা


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ Bangladesh Shomachar

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

নতুন একনেক গঠন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতি