নূর মোহাম্মদ জামালপুর প্রতিনিধি।
ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা, লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামালপুরের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। একই সঙ্গে সারা দেশব্যাপী ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ওপর চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে জামালপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে শহরের দয়াময়ী মোড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন মন্দির কমিটি, পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার সোম। সভায় বক্তব্য রাখেন দয়াময়ী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কুমার সিংহ, রাধামহনজিউ মন্দিরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুভাষিশ তালুকদার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপুল কাঞ্জি লাল, জামালপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দার্থ শঙ্কর রায়, শহর কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিপক কুমার শাহাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দিপু দাস হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতার একটি ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ওপর হামলা, হত্যা, বাড়িঘর ও উপাসনালয় ভাঙচুর বেড়ে চলেছে, যা রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।
এসময় তারা অবিলম্বে দিপু দাস হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত দিপু চন্দ্র দাস (২৭) কে সহকর্মীরা ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগ এনে মারধর শুরু করে। পরে লোকজন তাকে কারখানা থেকে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে এবং মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে “সংখ্যালঘু হত্যা বন্ধ কর, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার,নিরাপত্তা চাই,বিচার চাই এমন স্লোগান প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত
