জোসেফ মাসাদ
Donald Trump যুক্তরাষ্ট্রকে খ্রিষ্টান মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালনার বক্তব্য দেওয়ায় দেশটিতে নতুন করে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে “ঈশ্বরের অধীনে এক জাতি” হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
জাতীয় প্রার্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, মানুষের জীবন ও স্বাধীনতার অধিকার সরকারের কাছ থেকে নয়, বরং ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে। তিনি রাজনৈতিকভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং খ্রিষ্টান পরিচয়কে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে তাঁর প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
Pete Hegsethও যুক্তরাষ্ট্রকে ঐতিহাসিকভাবে খ্রিষ্টান জাতি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হিসেবে ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণের কথা বলেন।
ডেমোক্র্যাট দল ও উদারপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে ধর্মীয় প্রভাব বাড়ানো সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় প্রভাব রয়েছে। দেশটির জাতীয় মূলমন্ত্র “In God We Trust” উনিশ
শতক থেকেই প্রচলিত এবং শীতল যুদ্ধের সময় রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে ধর্মীয় ভাষা আরও জোরালোভাবে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে খ্রিষ্টান ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ—ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন গঠন ও জাতীয় প্রার্থনার আহ্বান—নিয়ে সমর্থন ও সমালোচনা উভয়ই দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে এই বিতর্ক ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
মিডিল ইস্ট মিরর থেকে অনূদিত
