অনলাইন ডেস্ক
রমজান শুরুর আগে হঠাৎ করেই লেবুর দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা গেলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে তা আবার কমতে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মৌসুমজনিত সরবরাহ সংকট, ক্রেতাদের অতিরিক্ত কেনাকাটা এবং বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতার সমন্বয়েই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
রমজানের আগে ইফতারি প্রস্তুতিতে লেবুর ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এর চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবুর দাম ছিল ৪০–৫০ টাকা। কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারির পর তা বেড়ে ১১০–১২০ টাকায় পৌঁছে যায়। অর্থাৎ প্রতিটি লেবুর দাম দাঁড়ায় প্রায় ২৮–৩০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, এটি লেবুর ভরা মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল ও ছোট ফল আসায় বাজারে সরবরাহ কম ছিল। ফলে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম দ্রুত বাড়ে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, রোজার আগে অনেক ক্রেতা একসঙ্গে বেশি পরিমাণে লেবু কিনে সংরক্ষণ করেন। এতে বাজারে হঠাৎ চাহিদার চাপ তৈরি হয়। কিছু ক্রেতার অভিযোগ, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দেন।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে গত সপ্তাহে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মাঝারি আকারের লেবুর দাম কমে হালিপ্রতি ৫০–৬০ টাকায় নেমে আসে। ছোট লেবুর দাম আরও কমে ৩৫–৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
খুচরা ব্যবসায়ীদের মতে, কয়েকদিনের অতিরিক্ত কেনাকাটার পর বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে এবং দামও নেমেছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেক চাষি আগেভাগে গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করেননি। এতে সাময়িকভাবে সরবরাহ কমে গিয়ে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–এর সহসভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, রমজানে পণ্যের সংকটের আশঙ্কায় ভোক্তারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কেনাকাটা করেন। এতে বাজারে সাময়িক চাহিদা বেড়ে গিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয় এবং ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সুযোগ পান।
তিনি ভোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে কেনাকাটার পরামর্শ দেন, যাতে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কমে।
