নিজস্ব প্রতিবেদক >>
দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) সুবাতাস লেগেছে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত এ আয়ের প্রবাহে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগস্ট মাসের প্রথম ৩০ দিনে প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের বেশি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে জুলাই মাসে গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবাসী আয় এসেছিল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে প্রবাসী আয় পাঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণায় কমেছিল রেমিট্যান্সের প্রবাহ। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসীরা সরকার পতন ছাড়া প্রবাসী আয় দেশে পাঠাবেন বলেও বিভিন্ন গ্রুপ পোস্টে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছিল। তবে আশার কথা হচ্ছে আওয়ামী সরকার পতনের পরে প্রবাসী আয় এখন ক্রমান্বয়েই বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবাসী আয়সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চলতি আগস্ট মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত দেশে ২০৭ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। যা দেশি মুদ্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসের একই সময়ে ১৪৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই হিসাবে চলতি বছর একই সময়ে ৬৪ কোটি ডলার বেশি প্রবাসী আয় এসেছে।
এদিকে গত জুলাই মাসে ১৯১ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।
শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেওয়ার পর আগস্ট মাসের শুরুতে দেশে সহিংসতা দেখা দেয়। এরপর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করেন। আরও তিন দিন পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে গত জুন মাসে ২৫৪ কোটি ডলার আয় দেশে পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা। জুনে দেশে যে পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল, তা ছিল একক মাসের হিসাবে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২৫৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।
