আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
কেরানীগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেরানীগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে উন্নয়নের চিত্র ভিন্ন। স্বপ্ন দেখালে তার বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হয়।’ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক বা রাজনীতিবিদের তদবির গ্রহণ করা উচিত নয়। ‘তদবির গ্রহণ করলে আপনারাও দায়ী হবেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা বিষয়গুলো নজরে রাখব এবং প্রয়োজন হলে সংসদে তুলব,’ বলেন তিনি।
পরিবেশের অবনতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চুনকুটিয়া খাল ও শুভাঢ্যা খালের অস্তিত্ব সংকটে। ‘একসময় সেখানে সাঁতার কেটে গোসল করেছি, এখন দূষণের মাত্রা এত বেশি যে পানিতে হাত দিলেই ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’ দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন প্রয়োজন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান কার্যক্রম শুরু করা। পূর্ববর্তী সময়ে হাসপাতাল, থানা-ফাঁড়ি এমনকি কারাগারেও মাদকের বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি এবং মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আদর্শের অনুসারী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তবে জনগণ তা সফল হতে দেবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ছিনতাই-লুটপাট ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তথ্য প্রকাশে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী দূষণমুক্ত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। কদমতলি-কোনাখোলা সড়কে জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবি জানান। অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ, আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন স্থাপন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান, রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সাত্তার বেগ, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
