অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কিছুটা আশাবাদী হয়েছেন। ট্রাম্প জানান, তার আসন্ন বৈঠকের লক্ষ্য হবে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান এখন আরও স্পষ্ট এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
ইউরোপের শেষ মুহূর্তের তাগিদ
আলাস্কা শীর্ষ সম্মেলনে বাদ পড়া ইউরোপীয় দেশগুলো বুধবারের ফোনালাপে ট্রাম্পকে ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ট্রাম্প আলোচনাকে “১০-এর মধ্যে ১০” হিসেবে মূল্যায়ন করলেও সতর্ক করেছেন—রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ভূখণ্ড নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার শঙ্কা
ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন—যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কিয়েভের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তবুও শঙ্কা রয়ে গেছে যে, পুতিন হয়তো ট্রাম্পকে ভূখণ্ড বিনিময়ে রাজি করাতে পারেন। পোল্যান্ড সতর্ক করেছে—রাশিয়াকে বিশ্বাস করা বিপজ্জনক, আর জার্মানি বলেছে—রাশিয়া ছাড় না দিলে চাপ আরও বাড়াতে হবে।
রাশিয়ার অনড় শর্ত
রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত—২০২৪ সালের জুনে পুতিন যে শর্ত দিয়েছিলেন, সেটিই বহাল। অর্থাৎ, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিৎঝিয়া অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। এই দাবিগুলো কিয়েভ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
ইউক্রেনের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা
জেলেনস্কি মনে করেন, রাশিয়াকে ভূখণ্ড ধরে রাখতে দিলে তা ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে। সমাধানের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, যা ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার জানান, এ বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে।
সম্ভাব্য পথচলা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা
ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে কিছু ইউরোপীয় নেতা স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ তিন বছরেরও বেশি সময়ের সংঘাতে এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নেতৃত্ব দিচ্ছে “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং” নামের জোটে, যা যুদ্ধ থামলে নিশ্চয়তা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে—যদিও বাহিনীর কাঠামো এখনো নির্ধারিত নয়।
